বন্যায় ভেসে গেছে ১১ কোটি টাকার মাছ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৭-২৩ , ০৯:৪৫ এএম

বন্যায় ভেসে গেছে ১১ কোটি টাকার মাছ ছবি: সিটিজেন নিউজ

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার প্রধান নদ-নদীর পানি ফের বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তৃতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে নেত্রকোনায়। এরই মধ্যে সোমবার রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার দুর্গাপুরে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

এদিকে বন্যায় এসব এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। খালিয়াজুরির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ১১৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ধনু ও উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলায় বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমন বীজতলা ছাড়াও বন্যায় ডুবে নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কৃষকের শ্রমে-ঘামে লালিত স্বপ্ন। পুকুর ডুবে ভেসে গেছে মাছ। জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের হিসাব মতে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার তিন হাজারেরও বেশি খামারির প্রায় ১১ কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

গত এক সপ্তাহ আগে জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে প্রায় সাতটি উপজেলা দ্বিতীয়বার বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। তখন অন্তত ৯৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক মানুষ ঠাঁই নেয়। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কলমাকান্দা উপজেলার বাসিন্দারা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফজলুল কবীর জানিয়েছেন, অন্তত ৩ হাজার ৩৬২ জন খামারির ৩ হাজার ৬৭৩টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ৯৩৯ দশমিক ৭৪ মেট্রিক টন মাছ ও ১৯২ দশমিক ১৮ মেকট্রিক টন পোনার ক্ষতি হয়েছে। মাছ, পোনা ও অবকাঠামোগত ক্ষতিসহ সব মিলিয়ে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৯১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

তিনি আরও জানান, গত ১৪ জুলাই থেকে বন্যার পানি কমে তিন দিন পর গত ১৭ জুলাই থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়। কিন্তু গত ১৯ জুলাই রাত থেকে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও জেলার কংস, সোমেশ্বরী, উব্দাখালী, ধনুসহ প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।