বাড়ি নির্মানে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

এদিন্ন্যে একজনওরে মারি...র‌্যাব আরে কীজ্জে দে?

 নিজস্ব প্রতিবেদক   |   আপডেট: ২০২০-০৬-১৬ , ০১:৪৩ পিএম

এদিন্ন্যে একজনওরে মারি...র‌্যাব আরে কীজ্জে দে? ছবি: সিটিজেন নিউজ

আমিনুর রহমান সুমন। এলাকায় ছোট ভাইদের বড় ভাই তিনি। সম্প্রতি একটি চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বাবার নাম বাবুল ডাকাত উল্লেখ করলেও ডাকাতির কোনও অভিযোগ নেই সুমনের বিরুদ্ধে। তবে, প্রবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা কীভাবে আদায় করতে হয় সেটা রপ্ত করেছেন বেশ! তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে (১২ জুন) প্রবাসীর এক আত্মীয় বাড়ি নির্মানে চাঁদার দাবিতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায়।

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার বখতেপুরের কালারপুলে টিপু নামে এক প্রবাসী তার বাড়ি নির্মান কাজে হাত দিলে নির্মান কাজে দায়িত্বরত তার আত্মীয় সেলিমকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চায় নয়ারহাটের স্থানীয় সন্ত্রাসী আমিনুর রহমান সুমন।

সুমন সেলিমের কাছে কীভাবে চাঁদা দাবি করেছে তার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ও অডিও সিটিজেন নিউজের কাছে এসেছে। যা সংরক্ষন করা হয়েছে।

একটি ভিডিওতে সুমনকে প্রবাসী কামরুল হাসান টিপুকে ফোনে বলছেন- এলাকার ছোট ভাইরা ২৪ ঘন্টা ঘুরে, সব সময় প্লটে থাকে; বাড়িতে আসলে ২-৪-৫ লাখ টাকা দিবেন আরকি ছোট ভাইদের খাওয়ার জন্য, ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য...।

ওই ভিডিওতে একজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন বলছে, এরকম অভিযোগ ১ হাজার হলে অসুবিধা কী? টিপুকে টিপুর ছেলেসহ মেরে ফেললে কী হবে? আমি যখন এ কাজে আছি পার্টি করলে এরকম অভিযোগ বহুত থাকবে।

ভিডিওতে সুমন হুমকি দিয়ে আরও বলেন, এদিন্ন্যে একজনওরে মারি... র‌্যাব আরে কীজ্জে দে? (সেদিন একজনকে মারি... চার গাড়ি র‌্যাব আসছে; আমার কী করতে পারছে? র‌্যাব কী উল্টাইয়া ফেলতে পারছে?)

সুমনের এক সহযোগী হুমকি দিয়ে বলেন, পুলিশ যদি ঘরে যায় তাহলে গেইটে তালা মারি দিবো।

এরপর সুমন একজনকে অকথ্য ভাষায় বলছে, টিপুর বাপের... (প্রকাশযোগ্য নয়) মাল বাইর কর; এখানেই মাল বাইর করবি।

অন্য আরেকটি ভিডিওতে সুমন শিবির ক্যাডার সরওয়ারের সাথে কথা বলেছে বলে উল্লেখ করে হুমকি দিতে দেখা গেছে।

অভিযোগকারী মো. সেলিম সিটিজেন নিউজকে জানান, আমার ছোট বোন এবং তার স্বামী প্রবাসে থাকার কারণে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন বখতেপুরের কালারপুল এলাকায় তাদের ক্রয়কৃত একটি জায়গার নির্মান কাজে আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি নির্মান কাজ শুরু করলে স্থানীয় সন্ত্রাসী আমিনুর রহমান সুমন আমাকে ফোন করে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলে । কী কারণে কাজ বন্ধ রাখবো- এমন প্রশ্নের জবাবে সুমন বলে, হিসাব নিকাষ আছে; এলাকার ছোট ভাইরা আছে।

সেলিম বলেন, আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চায় সুমন। পরে আমি আমার আত্মীয়-স্বজনের সাথে পরামর্শ করে বায়েজিদ থানায় গিয়ে একটি সুমনসহ রবিন, খোকন ও জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি। পরে থানার পুলিশ গিয়ে আমার নির্মান কাজ চালু করিয়ে দিলেও সুমন এবং তার বাহিনীর ছেলেরা আমাকে চাঁদার দাবিতে হুঁমকি দিয়ে আসছে।

সেলিম আরও বলেন, পুলিশ আমার জায়গার নির্মান কাজ চালু করিয়ে দিলেও জীবনাশঙ্কে আমি নির্মান কাজের স্থানে যেতে পারছি না।

এ বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আজাদ হোসেন সিটিজেন নিউজকে বলেন, আমিনুর রহমান সুমনসহ রবিন, খোকন ও জাহিদের নামে মো. সেলিম নামে একজন চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার সিটিজেন নিউজকে জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করে কেউ রেহাই পাবে না। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে; সত্যতা পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান ওসি।

সূত্র জানায়, শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের সহযোগী আবদুল্লাহ আল মামুনের ছত্রছায়ায় সুমনসহ প্রায় ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছে।