চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলেন ডাক্তার তাহের

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৬-১০ , ০১:২৭ পিএম

চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলেন ডাক্তার তাহের ছবি: সিটিজেন নিউজ

চট্টগ্রামে চিকিৎসা না পেয়ে একের পর এক মারা যাচ্ছে রোগীরা। প্রিয়জনকে বাঁচাতে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুঁটছে অসহায়ের মতো। প্রতিদিনের সংবাদমাধ্যমে এমন চিত্র উঠে আসেছে প্রতিনিয়ত। রোগীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে এসব হাসপাতাল, ক্লিনিকের মালিক সিন্ডিকেটের হাতে। তথ্যমতে চট্টগ্রামে চিকিৎসা না পেয়ে সবশেষ মারা গেলেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এমএ তাহের জামান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চারটি হাসপাতালের দরজা ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে অবশেষে মারা গেলেন ডাক্তার তাহের।

ডাক্তার তাহের জামানের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহের জামানের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তার হাত এবং পা নাড়াচাড়া করতে পারছিলেন না। বাসায় নিজেদের সংরক্ষনে থাকা অক্সিজেন লাগানোর পরও কোনও উন্নতি না দেখে প্রথমে তারা নগরীর মেট্রোপলিন হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের ডাক্তার একটি এক্সরে করে রোগীকে আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দিলেও মেট্রোপলিটনে ভর্তি করা যাবে না বলে জানায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

পরে সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে নগরীর পার্কভিউতে নিয়ে গেলে তাহের জামানকে একজন ডাক্তার ছুঁয়ে দেখা তো দূরের কথা কথাও বলতে রাজি হয়নি বলে জানান তাহের জামানের ভাগিনা জনি।

জনি সিটিজেন নিউজকে বলেন, মামাকে নিয়ে নগরীর মেট্রোপলিটন এবং পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে কোথাও ভর্তি করাতে পারিনি। প্রথমে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে একটি এক্সরে করালেও তারা ভর্তির পরামর্শ দিয়ে বের করে দেয়।

ডাক্তার তাহের জামানের ছেলে আরিফ সিটিজেন নিউজকে জানান, বাবার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তার হাত, পা অবশ হয়ে আসে। পরে নগরীর দুইটি বেসরকারী হাসপাতাল ঘুরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে তিনজন ডাক্তারকে বিনীত অনুরোধ করলেও তারা আমার বাবাকে একটি বারের জন্যও ছুঁয়ে দেখেনি।

আরিফ বলেন, পরে আমাদের একজন পরিচিত আইনজীবীর মাধ্যমে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে অনেক অনুরোধ করার পর আমার বাবাকে অক্সিজেন লাগালেও ততক্ষণে আমার বাবার পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের সহকারী ম্যানাজার মো. আলী সিটিজেন নিউজকে জানান, আমাদের এখানে চারটি আইসিইউ আছে কিন্তু আইসিইউর সেবাদানকারী ডাক্তাররা অসুস্থ বলে কোনও রোগীকে ভর্তি নেয়া সম্ভব হয়নি।

পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানাজার জিয়াউর রহমান তালুকদার সিটিজেন নিউজকে বলেন, আমাদের পার্কভিউতে মোট আইসিইউর সংখ্যা ছয়টি। সবগুলোতে রোগী আছে। আমাদের ক্যাপাসিটি নেই।

তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের চিকিৎসকরাও আক্রান্ত হচ্ছেন; কিন্তু সবখানে আইসিই্উ সঙ্কটের কারণে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

অভিযোগের সত্যতা জানতে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিএন্ডটি ০৩১৬৩০১৭৯ নাম্বারে একাধিকবার কল করলে কেউ রিসিভ না করা কোনও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কতৃপক্ষ সিটিজেন নিউজকে জানায়, এমএ তাহের জামান নামের একজন রোগী আমাদের হাসপাতালে আনার পর ওনার শ্বাসকষ্টের কারণে অক্সিজেন লাগানো হয়। কিন্তু রোগীর কন্ডিশন অনুযায়ী এর অনেক আগে আইসিই্উতে ভর্তি করা দরকার ছিলো। অনেক দেরি হওয়াতে তিনি মারা যান বলে জানান তারা।  

এরআগে একই দিনে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম ছগির নগরীর কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বলেও তার স্বজনরা অভিযোগ করেন।

ডাক্তার তাহের জামান নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন জেলা পরিষদ এলাকায় জেনুইন হোমিওপ্যাথিক নামে একটি চিকিৎসালয় পরিচালনা করতে। 

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণিজন ও শোভাকাঙ্খি রেখে গেছেন।