আরেক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফিরোজ বায়েজিদে গ্রেফতার

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৫-০১ , ০৭:০১ পিএম

আরেক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফিরোজ বায়েজিদে গ্রেফতার শিবির ক্যাডার মো: ফিরোজ। ছবি: সিটিজেন নিউজ

চট্টগ্রাম নগরীর আরেক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মো: ফিরোজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১মে) রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৫৪০ পিস ইয়াবা ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ফিরোজের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের অনুসারী হলেও কৌশলগত কারণে ভোল পাল্টে এখন স্বঘোষিত যুবলীগ নেতা দাবি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফিরোজ বায়েজিদ থানা এলাকার আতুরার ডিপোর বনানী আবাসিকে অবস্থান করছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে বায়েজিদ থানার একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায়। পরে তল্লাশী চালিয়ে তার কাছ থেকে ১২টি কার্তুজ ও ৫৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

অভিযান পরিচালনায় থাকা বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো: নাসিম সিটিজেন নিউজকে বলেন, গোপন সংবাদ পেয়ে শুক্রবার রাতে বনানী আবাসিকের একটি ভবনে অভিযান চালাই। এসময় সন্ত্রাসী ফিরোজকে পেয়ে তল্লাশী চালিয়ে তার কাছ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ও ৫৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী ফিরোজ ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরের প্রবর্তক মোড়ে একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে ১১ লাখ টাকা লুট করে নেয়। মারধর করা হয় একজন চিকিৎসককে। ডাকাতি ঘটনার পরদিন নগরের বায়েজিদ থানার কয়লাঘর এলাকা থেকে শিবির ক্যাডার মো. ফিরোজ ও মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ফিরোজের পাঁচলাইশের আস্তানা থেকে ১২ রাউন্ড গুলিভর্তি দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি গুলিসহ একটি ম্যাগাজিন, একটি একনলা বন্দুক, একটি বন্দুকের ব্যারেল, তিনটি কার্তুজ, দুটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ।
ফিরোজ ওই সময় পুলিশ কাছে স্বীকার করে অস্ত্রগুলোর মালিক শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ, ম্যাক্সন ও সরওয়ারের। ২০১৫ সালে ফিরোজ জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার শুরু করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। সে সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের ছবি ব্যবহার করে বিলবোর্ড টাঙিয়ে সমালোচনায় এসেছিলেন ফিরোজ।

সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (বায়েজিদ জোন) পরিত্রাণ তালুকদার সিটিজেন নিউজকে বলেন, ফিরোজের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। রাতে তাকে গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে বায়েজিদ থানা পুলিশের একটি টিম।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের আলোচিত তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামী ফিরোজ।

পুলিশ বলছে, কয়েকটি গ্যাং পরিচালনা করে ফিরোজ। অর্ধশতাধিক কিশোর ও তরুণ সক্রিয় রয়েছে এসব গ্রুপে। নগরের মুরাদপুর, নাসিরাবাদ, ষোলশহর ও পাঁচলাইশ এলাকায় সক্রিয় এই গ্রুপ। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের আলোচিত তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায়ও জেলেও যান শিবিরের টপ টেরর ফিরোজ।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার সিটিজেন নিউজকে বলেন, সন্ত্রাসী ফিরোজকে ১২টি গুলি ও ৫৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, অস্ত্রের বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।

সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক সিটিজেন নিউজকে জানান, চট্টগ্রাম নগরীতে ফিরোজের নেতৃত্বে কয়েকটি গ্রুপ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের চাঁদাবাজি ও খুনের অপারেশনে সক্রিয় ছিলেন ফিরোজ। এক সময় যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিলেও সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো সাজ্জাদ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ফিরোজের মাধ্যমে।