মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড

সপ্তম দফায় প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

 আদালত প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২১-১১-১৬ , ০৭:১৮ এএম

সপ্তম দফায় প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ ছবি: সিটিজেন নিউজ

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার সপ্তম দফায় প্রথম দিনে আরও ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ৬৪ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করলেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে ধারাবাহিকভাবে এসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল মোশারফ হোসেন, সার্জেন্ট মো. আয়ুব আলী, পরিদর্শক মানস বড়ুয়া, পরিদর্শক এ বি এম শামসুদ্দোহা তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৯ টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজেন ভ্যান করে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়।

গত ২৩শে আগস্ট মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং দুই নম্বর সাক্ষী সাহেদুল সিফাতের সাক্ষ্য নেয়ার মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ষষ্ঠ দফা পর্যন্ত ৫৯ জনের জবানবন্দি নেয়া হয়। মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ৮৩ জন সাক্ষীকে নোটিশ দেয় আদালত। এর মধ্যে আরও ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১শে জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। তার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন, সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তার ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করে। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।

সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ই আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৭শে জুন ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে মামলাটির বিচারের জন্য অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর গত ২৩শে আগস্ট থেকে ২৫শে আগস্ট পর্যন্ত প্রথম দফায় টানা তিনদিনে মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর ৬ দফা পর্যন্ত ৫৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জেরা সম্পন্ন হয়।