বাবুলের নির্দেশে মিতুকে খুন করে ভোলা

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-১০-২৪ , ০৬:২৫ এএম

বাবুলের নির্দেশে মিতুকে খুন করে ভোলা ছবি: সিটিজেন নিউজ

স্ত্রী মিতুকে খুন না করলে সোর্স মুসাকে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতার। এমনকি হত্যায় ব্যবহারের জন্য তার পূর্ব পরিচিত ভোলার কাছ থেকে পিস্তল এবং গুলিও যোগাড় করে দিয়েছিলেন তিনি। ক্রসফায়ার থেকে রক্ষা পেতেই কিলার গ্রুপ মিতুকে হত্যা করতে বাধ্য হয়।

আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য প্রকাশ করেছে মিতু হত্যায় অস্ত্র সরবরাহকারী এহেতাশামুল হক ওরফে ভোলা।

গত কয়েকদিন ধরেই ভোলাকে হন্য হয়ে খুঁজছিল মিতু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর থেকে পালিয়ে থাকার কারণে তার খোঁজ মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত তার সন্ধান মিলে সীমান্ত এলাকা বেনাপোলে।

গ্রেফতারের পরই আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ভোলা দাবি করেছে, বাবুল আকতারের নির্দেশেই তারা মিতু হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে সোর্স মুসা বাবুল আকতারের স্ত্রী মিতুকে হত্যায় রাজি ছিল না। পরবর্তীতে বাবুল আকতার ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেওয়ায় মুসা রাজি হয়।

বাবুল আকতারের সঙ্গে মুসার ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি মিতু হত্যার আগে থেকে শুরু করে কিলিং মিশন শেষ হওয়ার পর দু'জনের কথপোকথনের বিস্তারিত ভোলা তার জবানবন্দিতে তুলে ধরে।

বহুল আলোচিত এই মামলার অন্যতম আসামি ভোলার জবানবন্দিকে ঘটনার সঙ্গে বাবুল আকতারের সম্পৃক্ততা প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাদি পক্ষের আইনজীবী। কারণ বাবুল আকতারের নির্দেশে অস্ত্র সরবরাহ ছাড়াও মুসাকে বালুর ডিপোতে ম্যানেজারের চাকরি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভোলা।

তবে চার বছর ধরে কারাগারে থাকা অবস্থায় ভোলার জবানবন্দি না নিয়ে এখন জবানবন্দি নেওয়ায় আইনগত প্রশ্ন তুলছেন বাবুল আকতারের আইনজীবী।

এদিকে পিবিআই এর দাবি, এহেতাশামুল হক ভোলার কাছ থেকে যে পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে তা মিতু হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছিলে বলে ইতোমধ্যে ব্যালিষ্টিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর জিইসি মোড়ে দুষ্কৃতিকারীরা তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আকতারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে চলতি বছরের ১২ মে পিবিআই আগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

অবশ্য ওই দিনই বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে বাবুল আকতার এবং ভোলাসহ ৮ জনকে আসামি করে নতুন একটি মামলা করেন। ওই মামলায় বাবুল আকতারকে গ্রেফতার করে পিবিআই।