পৃথক দুর্ঘটনায় দুই জেলায় নিহত সাতজন

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৯-১৮ , ০৬:৫৯ এএম

পৃথক দুর্ঘটনায় দুই জেলায় নিহত সাতজন ছবি: সিটিজেন নিউজ

বরিশালে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৩ বন্ধু এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই বাড়ির ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতুতে এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হলেও অপরজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন-বাকেরগঞ্জ পৌর শহরের সুমন হাওলাদারের ছেলে সিয়াম, জয়দেব দাসের ছেলে চয়ন দাস ও রাব্বী নামের একজন।

অপরদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই বাড়ির ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে। বিদ্যুতের স্টীলের খুঁটি বিদ্যুতায়িত হওয়ায় একজনের চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে।

নিহতরা হচ্ছেন, ওই বাড়ির আবুল বাশারের ছেলে মো. আব্দুর রহিম, নুর হোসেনের ছেলে মো. সুমন, উজির আলীর ছেলে মো. ইউছুফ ও শহীদ উল্যার ছেলে জুয়েল।

বরিশালের সড়ক দুর্ঘটনা: নিহতের বন্ধু রাকিব ও তপু জানান, বাকেরগঞ্জ জেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র আমরা ৬টি মোটরসাইকেলে ১৮ জন বরিশালে ঘুরতে আসি। ব্রিজে ওঠার সময়ে পেছন দিক থেকে একটি বাস এসে চয়ন, সিয়াম ও রাব্বিকে বহনকারী মোটর সাইকেলটি চাপা দেয়।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলটি বেপরোয়া গতিতে বাসটি ওভারটেক করছিলো। তখন বিপরীত দিক থেকে আরও একটি বাস এসে পড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছনে থাকা বাসের চাকার নিচে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহাতাব হোসেন দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন রাব্বীকেও রাত ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পরে রুপাতলী বাস মালিক সমিতির রাতুল-রোহান নামক পরিবহনটি আটক করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা: স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরন উর রশিদ জানান, সন্ধ্যায় বাড়ির পাশ্ববর্তী নিজের ক্ষেতে সবজি তোলার কাজ করছিলেন আব্দুর রহিম(৩৪)। ক্ষেতের মধ্যে পানি ছিল। সবজি তোলার সময় ক্ষেতের মাঝখানে থাকা পল্লী বিদ্যুতের স্টীলের একটি খুঁটির সাথে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চিৎকার করে সে। এসময় পাশে থাকা একই বাড়ির সুমন, ইউছুফ ও জুয়েল তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে পানিতে থাকা বিদ্যুতে স্পৃষ্ট হয়ে তারা ৩ জন মারা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসে জানানোর পর তারা সংযোগ বন্ধ করে দিলে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নোয়াখালি পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।