বিদেশে বসে অপপ্রচার চালালেও ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৯-১৩ , ০৯:২৫ পিএম

বিদেশে বসে অপপ্রচার চালালেও ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী ছবি: ইন্টারনেট

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিদেশে বসে বিভিন্ন ব্যক্তি বিশেষ নির্দিষ্ট কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে মাঝে মধ্যেই নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমগুলো সঠিকভাবে কাজ করেছে কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে করোনাকালেও অনেক গুজব রটানো এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের মন্ত্রণালয় এই ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার জন্য অনলাইন সংবাদ পোর্টাল, আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া শুরু করাসহ অনেকগুলো কাজ এরই মধ্যে করেছে।

যারা সার্ভিস প্রোভাইডার তাদের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা পাওয়া প্রয়োজন সবসময় সে ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এজন্য আমরা সার্ভিস প্রোভাইডারদের সঙ্গে যেমন আলোচনা করছি একইসঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে সব ব্যক্তি বিশেষ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে যে সব দেশ থেকে এই অপপ্রচারগুলো চালায় সেই সব দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, রিপোর্টার্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে প্রচণ্ড আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেটির প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম এবং আমরা জানিয়েছিলাম যে, এটি যদি সংশোধন করা না হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। রিপোর্টার্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স-এর কার্যালয় ফ্রান্সের প্যারিসে।

ফরাসি আইনজীবীর মাধ্যমে তাদেরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ফরাসি আইন অনুযায়ী এমন কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী এভাবে ব্যক্তি বিশেষকে কটাক্ষ করে কিংবা টার্গেট করে অহেতুক যে ধরনের রিপোর্ট তারা প্রকাশ করছিল, সেটি করতে পারে না। ফরাসি আইনের সেই ধারা উল্লেখ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট আইনের উল্লেখ করে তাদেরকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, অন্যান্য দেশ থেকেও যারা এ সব কাজগুলো করছেন তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিষয়ে নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে, শিগগিরই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ রেগুলেটরি জব; নীতি, নীতিমালা তৈরি করে এই গণমাধ্যমের ক্রমবিকাশকে এগিয়ে নেওয়া। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এটি একটি ক্রমবর্ধমান বাস্তবতা। কিন্তু ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা, নাটক, ওয়েব সিরিজ বা কোনো কন্টেন্ট রিলিজ করতে হলে এখনও অনুমোদনের ব্যবস্থা নেই। আমি সাম্প্রতিক ভারত সফরে সেখানকার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সঙ্গে তারা কিভাবে বিষয়টিকে দেখভাল করছে সে বিষয়ে আলাপ করেছি। তারা গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন আকারে একটি নীতিমালা জারি করেছে, সেখান থেকে পরিচালিত সব ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে এই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। সেই নীতিমালার ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এরই মধ্যে নীতিমালার প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছি। সেই নীতিমালা খুব শিগগির প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করতে পারব বলে আশা করছি।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট এতো বিস্তৃত ও ব্যাপক যে, সেন্সর বোর্ডের মাধ্যমে সেন্সর করা দুরূহ কাজ- এমনটা উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বছরে ৫০টি বা ১০০টি সিনেমা রিলিজ হয়, সেটি সেন্সর করা সহজ। কিন্তু ওটিটির হাজার কন্টেন্ট সেন্সর করা সহজ কাজ নয়। সে কারণে ভারতসহ অন্যান্য দেশে যেভাবে করা হচ্ছে সেভাবে একটি নীতিমালা খসড়া তৈরি করেছি যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করব। এটা এজন্য যাতে করে আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা সমাজ ও মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে, বিজাতীয় সংস্কৃতি উৎসাহিত হয় কিংবা আমাদের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করতে পারে, এমন কোনো কন্টেন্ট সেখানে না যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে এ সময় ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যুক্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে মতপ্রকাশের অবারিত সুযোগ করে দিয়েছে, একইসঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরি, সরকার ও ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর সুযোগ হিসেবেও এটির ব্যবহার লক্ষণীয়।