রিমান্ড শেষে ভারতের কারাগারে সোহেল রানা

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৯-০৮ , ০৯:৩৪ পিএম

রিমান্ড শেষে ভারতের কারাগারে সোহেল রানা ছবি: ইন্টারনেট

পালিয়ে ভারতে গিয়ে ধরা পড়া পুলিশ কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানাকে পুলিশ রিমান্ড শেষে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সোহেল রানাকে কোচ বিহার জেলার মেখলিগঞ্জের স্থানীয় নিম্ন আদালতে তোলা হয়। দুই দফায় সাতদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তপন রায় প্রধান বলেন, 'সোহেল রানাকে বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর তাকে আবার আদালতে তোলা হবে। সে পর্যন্ত উনি জেল হেফাজতে থাকবেন। সোহেল রানার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আমরা আবেদন করেছি, জেলে থাকা অবস্থায় যেন ওনার শারীরিক পরীক্ষা করা হয় এবং প্রোপার মেডিকেল ট্রিটমেন্ট করা হয়। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এবং জেলারকে আদালত সোহেল রানার শারীরিক কন্ডিশন দেখভাল করার জন্য অর্ডার করেছেন।

সোহেল রানার বিরুদ্ধে ই-অরেঞ্জ নামে অনলাইন মার্কেট প্লেসের সঙ্গে যোজসাজশ থাকার অভিযোগ রয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে প্রতারণার মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসামি হিসেবে রানাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে দিল্লির কাছে। ৩ সেপ্টেম্বর চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হন প্রতারক সোহেল রানা।

এদিকে সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) চিঠি দেয় পুলিশ সদর দপ্তর।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম জানান, চিঠির এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। আবারও চিঠি পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত থেকে নানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা।

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে শুক্রবার কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত থেকে সোহেল রানা নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিএসএফের হাতে আটক সোহেল রানা রাজধানীর বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই পুলিশ পরিদর্শকের বোন ও ভগ্নিপতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ পরিচালনা করতেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সোহেল রানা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক। গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোহেলের নামও এসেছে।

এ ঘটনায় শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমান উল্লাহ, নাজনিন নাহার বিথি, কাওসার, কামরুল হাসান, আব্দুল কাদের, নূরজাহান ইসলাম সোনিয়া ও রুবেল খান।