বাদী থেকে প্রধান আসামি বাবুল

  সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৫-১২ , ০৫:৫১ পিএম

বাদী থেকে প্রধান আসামি বাবুল ছবি । সিটিজেন নিউজ

স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মিতু হত্যার পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে যে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজ সকালে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। এরপর নতুন মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় নিহত মাহমুদা খানম মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন এ মামলা করেন।

মামলা করার পর সংবাদ সম্মেলনে বাদী মোশাররফ অভিযোগ করেন, বাবুল আক্তারের সঙ্গে এক এনজিও কর্মীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তাঁর মেয়ের সঙ্গে বাবুলের ঝগড়া হয়। মৃত্যুর আগে মিতু বিষয়টি তাঁদের জানিয়েছিলেন। পারিবারিকভাবে তাঁরা বিষয়টি সমাধানেরও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সফল হননি। একপর্যায়ে বাবুল ও ওই নারী মিতুকে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মোশাররফ বলেন, মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি সাতজনের নাম আগের মামলায় পুলিশের তদন্তে এসেছিল। আসামিরা হলেন- বাবুল আক্তার, কামরুল সিকদার মুসা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোহাম্মদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আনোয়ার, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ সাজু ও মোহাম্মদ কালু।

মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, বাবুলের পরিকল্পনায় আসামিরা তার মেয়েকে হত্যা করে। ২০১৩ সালে বাবুল যখন কক্সবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তখন এনজিওর এক মাঠকর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক হয়। বিষয়টি মিতু জানতে পারলে ঝগড়া হয়।

ঘটনার পর বাবুল মোশাররফের বাসাই ছিলেন। 

চট্টগ্রাম পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মিতু হত্যার পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে যে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজ সকালে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। এরপর নতুন মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে আদালতে হাজির করা হবে। মামলার রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সংস্থাটির প্রধান উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। নতুন মামলা হলেই তিনি গ্রেফতার হবেন। মিতুর বাবা বাদী হয়ে মামলা করবেন। প্রস্তুতি চলছে।