আজ পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-১১-২৭ , ১২:২০ পিএম

আজ পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ছবি: সিটিজেন নিউজ

আজ শুক্রবার পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম বা বড়পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানির (র.) ওফাত দিবস। তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধস্তন বংশধর। তিনি ৪৭০ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের ১ তারিখে ইরানের জিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বিশিষ্ট বুজুর্গ সাইয়েদ আবু সালেহ জঙ্গি আর মাতা সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি আধ্যাত্মিক জগতের এ মহান সাধক ইন্তেকাল করেন। ইয়াজদাহম ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম বলতে রবিউস সানি মাসের এগারো তারিখে বড়পীর স্মরণে ফাতেহা শরিফের আয়োজনকে বোঝায়।

এ উপলক্ষে গতকাল বাদ মাগরিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির আয়োজনে চট্টগ্রাম বায়েজিদস্থ কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ৬৭তম পবিত্র ফাতেহা-এ ইয়াজদাহুম মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

যুগের সংস্কারের দায়িত্ব পালন করেন হযরত গাউছুল আজম উল্লেখ করে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন। মানবজাতিকে হেদায়তের জন্য মহান আল্লাহ পাক এক এক যুগে এক এক জন হাদী বা পথ প্রদর্র্শক প্রেরণ করে থাকেন। তারা যুগের সংস্কারের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সমস্ত হাদীরা তত বেশী উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হয় যারা যত বেশী নবী (দঃ) এর প্রেমে নিজেদেরকে নিবেদন করতে পেরেছেন। বেলায়তের পথপরিক্রমায় হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) নবী প্রেমের পথ ধরে তাওয়াজ্জুহর মাধ্যমে মানবজাতিকে হেদায়তের শাশ^ত শান্তির সোনালী পথের সন্ধান দিয়েছেন তা চির স্মরণীয়। সভ্যতার চরম উৎকর্ষতার যুগে এসে আমরা পেয়েছি এমন একজন কালজয়ী মনীষী যিনি কাগতিয়ার নিভৃত পল্লি থেকে যে আধ্যাত্মিক বিপ্লবের সূচনা করেছেন তা বিশ^ময় ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার পথভ্রষ্ট যুবক কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ আওলাদে মোস্তফা খলিফায়ে রাসুল হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর অনুসৃত তরিক্বতে এসে নূরে মোস্তফা গ্রহণের মাধ্যমে আলোকিত মানুষে পরিণত হচ্ছে।

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল হক, মাওলানা মোহাম্মদ এরশাদুল আলম, মাওলানা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রমূখ।

মিলাদ-ক্বিয়াম শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ্র সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আজ দেশের বিভিন্ন খানকা ও দরবার শরিফে ফাতেহা শরিফ পাঠসহ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

হজরত মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানি (র.) বড়পীর তৎকালীন বাগদাদের শ্রেষ্ঠ বিদ্যপীঠ নিজামিয়া মাদ্রাসায় কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, আকাইদ ইত্যাদি বিষয়ে অধ্যয়নের পর সেখানেই দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। তিনি অসাধারণ আধ্যাত্মিক সাধনা বলে মানুষের মাঝে চারিত্র্যিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। হজরত আবদুল কাদের জিলানি (র.)-কে সব আউলিয়ায়ে কেরামের সর্দার বা বড়পীর হিসেবে গণ্য করা হয়।